টানা পঞ্চম বছরে প্রাকৃতিক রাবারের বাজারে ঘাটতির আশঙ্কা

বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন চলতি বছর চাহিদার তুলনায় কমতে পারে। এতে টানা পঞ্চম বছরের মতো ২০২৫ সালে পণ্যটির বাজারে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন চলতি বছর চাহিদার তুলনায় কমতে পারে। এতে টানা পঞ্চম বছরের মতো ২০২৫ সালে পণ্যটির বাজারে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, এ বাজার ঘাটতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোয় উৎপাদন হ্রাস।

প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাচারাল রাবার প্রডিউসিং কান্ট্রিজের (এএনআরপিসি) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লক্ষ্মী নায়ার জানিয়েছেন, চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে রাবারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিন্তু কম দামের কারণে পিছিয়ে রয়েছে উৎপাদন।

তিনি বলেন, ‘‌উৎপাদন ঘাটতির ফলে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক রাবারের দাম স্থিতিশীল থাকবে, যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে ১৩ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ফলে টায়ার কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়বে।’

এএনআরপিসির তথ্যমতে, এ বছর বিশ্বব্যাপী রাবার উৎপাদন দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখ টন হতে পারে। এ সময় চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ টন হতে পারে।

উৎপাদন ঘাটতির জন্য আবহাওয়াজনিত কারণকে সামনে আনছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এক দশক ধরে পাম, কফি ও কোকোর মতো ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রাবার উৎপাদন। সেই সঙ্গে উৎপাদন হ্রাসে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে কম দাম।

এএনআরপিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লক্ষ্মী নায়ার বলছেন, সাত-আট বছর ধরে প্রাকৃতিক রাবারের দাম ক্রমান্বয়ে কমছে। ফলে রাবারচাষীরা আরো লাভজনক ফসল উৎপাদনে উৎসাহী হচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাম অয়েল ও দ্বিতীয় বৃহত্তম রাবার উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ার নাম নেয়া যায়। দেশটিতে দিন দিন প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন কমছে। মূলত কৃষকরা রাবার ছেড়ে লাভজনক পাম অয়েল চাষে ঝুঁকছেন বলে অভিমত নায়ারের।

২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২০ লাখ ৪০ হাজার টনে নামবে বলে আশঙ্কা করছে এএনআরপিসি। আর তৃতীয় শীর্ষে থাকা দেশ ভিয়েতনামের উৎপাদন ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১২ লাখ ৮০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে।

তবে ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডের উৎপাদন ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এএনআরপিসি। এছাড়া সম্প্রতি আইভরি কোস্টের মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় উৎপাদন বাড়ছে। যদিও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা ও উৎপাদন ক্ষতিপূরণে এ প্রবৃদ্ধি অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে সংস্থাটি।

চলতি বছর বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক রাবার ব্যবহারকারী চীন ও ভারতে চাহিদা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এএনআরপিসি। দেশ দুটিতে চাহিদা বাড়ার হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৫ ও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।

আরও